১৯৬৫ সাল। ইতালির সিসিলি শহরের মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোরী ফ্রাঙ্কা ভিয়োলা, যে কিনা দাঁড়িয়ে ছিল পরিবার, সমাজ আর আইনের বিপরীতে। এক ব্যক্তি ফ্রাঙ্কাকে অপহরণ করে আট দিন আট রাত নির্মম যৌ’ন নির্যাতন করেছিল, শুধু একটি দাবিতে— "আমাকে বিয়ে করো।” তখন ইতালির আইন বলত—ধ’র্ষক যদি ভিকটিমকে বিয়ে করে, সে শাস্তি পাবে না। আইনের ভাষায় একে বলা হতো “সম্মান পুনরুদ্ধার”।
ফ্রাঙ্কাকে বলা হয়েছিল, "ধ’র্ষণ হয়েছে তো কী হয়েছে? লোকটা বিয়ে করতে চায়। বিয়ে করলেই সম্মান ফিরে পাবে।” কিন্তু সে উত্তর দিয়েছিল মাত্র এক শব্দে—
“না।” এই “না” ছিল সমাজের মুখে চপেটাঘাত। কারণ ধ’র্ষককে মুক্ত করে কিসের সম্মান উদ্ধার হয়? সে রাজি হয়নি। উদ্ধারের পরও পরিবার ও সমাজ চাপ দিয়েছিল—
“বিয়ে করো, নইলে জীবন শেষ।” কিন্তু ফ্রাঙ্কা জীবন হারাতে রাজি ছিল, আত্মসম্মান নয়। ১৯৬৬ সালে সে আদালতে দাঁড়ায়। একজন কিশোরী প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বলেছিল—"আমি ভিকটিম আমি অপরাধীর স্ত্রী হব না।”
ফ্রাঙ্কা মামলায় জিতেছিল। ধ’র্ষক ফিলিপ্পো মেলোডিয়া পেয়েছিল ১১ বছরের কারাদণ্ড। আর ফ্রাঙ্কা হয়ে উঠেছিল সেই নারী, যে একটি বর্বর সামাজিক প্রথার মুখে প্রথম দৃঢ়ভাবে “না” বলেছিল। এই মামলাটি গোটা ইউরোপ নাড়িয়ে দিয়েছিল। পোপ, রাষ্ট্রপতি—বিশ্বনেতারা তার সাহসের প্রশংসা করেছিলেন।
অবশেষে ১৯৮১ সালে, ইতালি সেই লজ্জাজনক আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়। ফ্রাঙ্কা পরে বিয়ে করেছিল তার শৈশবের বন্ধু জিউসেপ্পেকে—যে কখনো বলেনি “তুমি ধর্ষিতা”, সবসময় বলেছিল—"তুমি যোদ্ধা।”
এই গল্প শুধু ইতালির নয়, এটি প্রতিটি সমাজের জন্য আয়না। কারণ আজও পৃথিবীর বহু জায়গায় মেয়েদের বলা হয়—"মেনে নাও।” কিন্তু ইতিহাস বলে—আত্মসম্মান কখনো মেনে নেওয়ায় আসে না,আ সে প্রতিবাদে ❤️
#চাঁদপুর #BarCouncilExam #ukvisa #Bangladesh #সাবধান #usarmy #court #usanews #Dhaka #usatoday

0 Comments
Thanks for your feedback.