এক বিস্ময়কর চিকিৎসা কাহিনি…
শোনা যায়, এক রইস ব্যক্তির মেয়ে একদিন ঘোড়ায় চড়তে গিয়ে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে তার নিতম্বের হাড় (হিপ বোন) জয়েন্ট থেকে সরে যায়। মেয়েটির বাবা অনেক নামী-দামী ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান হাড় বসানোর জন্য। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই—মেয়েটি কোনো ডাক্তারকেই তার শরীর স্পর্শ করতে দিত না।
বাবা অনেক বোঝান, এমনকি বলেন যে ডাক্তার মাহরাম—তবুও মেয়েটি রাজি হয় না। এভাবে দিন দিন মেয়েটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
শেষমেশ লোকজন তাকে পরামর্শ দেয়—শহরের বাইরে এক অত্যন্ত হাযিক (দক্ষ) হাকিম আছেন, তার কাছে নিয়ে যেতে।
লোকটি হাকিম সাহেবের কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলেন। হাকিম সাহেব বলেন,
“একটি শর্তে আমি তোমার মেয়ের হাড় বসিয়ে দিতে পারি—তাকে একটুও স্পর্শ না করে।”
লোকটি সঙ্গে সঙ্গে বলেন,
“যে শর্তই হোক, আমি মেনে নেব।”
তখন হাকিম সাহেব বলেন,
“আমাকে একটি খুব মোটা ও তাজা গরু এনে দাও—তাহলেই আমি তোমার মেয়ের চিকিৎসা করব।”
লোকটি শহরের সবচেয়ে ভালো ও দামি গরুটি কিনে হাকিম সাহেবের বাড়িতে পৌঁছে দেন। হাকিম বলেন,
“পরশুদিন তোমার মেয়েকে নিয়ে এসো। আল্লাহর হুকুমে আমি চিকিৎসা করব।”
লোকটি চলে গেলে হাকিম সাহেব তার শিষ্যদের বলেন,
“এই দুই দিন গরুটিকে একমুঠো ঘাসও দেওয়া যাবে না, এক ফোঁটা পানিও না।”
শিষ্যরা খুব অবাক হয়—এত মোটা গরু কি দুই দিন না খেয়ে না পান করে বেঁচে থাকবে? কিন্তু ওস্তাদের আদেশ, তাই কিছুই দেওয়া হলো না। দুই দিনে গরুটি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
নির্ধারিত দিনে বিকেলে লোকটি তার মেয়েকে শয্যায় শুইয়ে নিয়ে আসে। হাকিম সাহেব তখন মেয়ের বাবাকে বলেন,
“তোমার মেয়েকে গরুটির পিঠে বসাও।”
সবাই হতভম্ব হয়ে যায়, কিন্তু আদেশ মানা ছাড়া উপায় ছিল না। মেয়েটিকে গরুর পিঠে বসানো হয়।
এরপর হাকিম শিষ্যদের বলেন, মেয়েটির দুই পা দড়ি দিয়ে গরুর পেটের চারদিকে শক্ত করে বেঁধে দিতে। কাজ শেষ হলে হাকিম বলেন,
“এবার গরুর সামনে ঘাস আর খাবার দাও।”
দুই দিন না খেয়ে থাকা গরু তৎক্ষণাৎ খেতে শুরু করে। এরপর একটি বড় পাত্রে খুব বেশি লবণ মিশিয়ে পানি রাখা হয়। গরু দ্রুত পানি খেতে থাকে। লবণের কারণে তৃষ্ণা আরও বেড়ে যায়, ফলে গরু একটানা অনেক পানি খেয়ে ফেলে।
খাবার আর পানিতে গরুর পেট ফুলে ওঠে। সেই চাপ গরুর পেটের সঙ্গে বাঁধা মেয়েটির পায়ে পড়ে। প্রচণ্ড ব্যথায় মেয়েটি চিৎকার করে ওঠে।
হঠাৎ একটি “খট” শব্দ হয়—ঠিক যেন পাথর বসে যাওয়ার শব্দ। তীব্র যন্ত্রণায় মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
তৎক্ষণাৎ মেয়েটিকে গরুর পিঠ থেকে নামানো হয়। হাকিম সাহেব বলেন,
“তোমার মেয়ের নিতম্বের হাড় নিজের জায়গায় ফিরে গেছে। আর আজ থেকে এই গরু আমার।”
এই মহান চিকিৎসক আর কেউ নন—তিনি হলেন হাকিম বু আলী সিনা, যিনি পরবর্তীতে সারা দুনিয়ায় দানিশমন্দ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
#চাঁদপুর #BarCouncilExam #ukvisa #Bangladesh #সাবধান #court #Dhaka


0 Comments
Thanks for your feedback.